ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ : | বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নোম চমস্কি (Noam Chomsky) এবং তাঁর স্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন যে ভালোভাবে খোঁজখবর না নিয়ে জ্যাপরে ইপস্টেইনের সাদর আহ্বানে বন্ধুত্বের সম্পর্ক স্থাপন করে তাঁরা মারাত্মক ভুল করেছেন। এ মেলামেশায় তাঁরা অনুতপ্ত। দীর্ঘ এক বিবৃতিতে ভ্যালেরিয়া চমস্কি অনুশোচনা প্রকাশ করে বলেন যে, ইপস্টেইন তাঁদের সাথে প্রতারণা করেছেন। ৯৭ বছর বয়স্ক খ্যাতিমান এই বহুভাষিক পণ্ডিত এবং বামধারার দার্শনিক ইপস্টেইনের সাথে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের প্রশ্নবাণের সম্মুখীন হয়েছেন। চলমান এ পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা কে জানে!
জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট সম্প্রতি চমস্কি-ইপস্টেইন মধ্যকার যোগাযোগ সম্পর্কিত বার্তা উন্মুক্ত করলে তা বিভিন্ন মহলে প্রশ্নের উদ্রেক করে। তবে, যৌন উদ্দেশ্য এ সম্পর্কে প্রোথিত ছিল এমন কোনো ক্লু এখনো প্রকাশ পায়নি। ইপস্টেইন সম্পর্কের এক পর্যায়ে তাঁর বিরুদ্ধে আরোপিত বিভিন্ন যৌন আচরণ সংক্রান্ত অভিযোগ কীভাবে মোকাবিলা করা যায় সেসব বিষয়ে চমস্কির পরামর্শ চাইলে তিনি খোলামেলাভাবে বলেন, চুপ করে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। উপদেশ দিয়ে চমস্কি ইপস্টেইনকে যে ইমেইল পাঠান তা ছিল, I’ve watched the horrible way you are being treated in the press and public. It’s painful to say but I think the best way to proceed is to ignore it (Sam Levine in the New York, 08 February, 2026)।
ইপস্টেইন তাঁর এক বন্ধুর সাথে বার্তাটি শেয়ার করলে তা ছড়িয়ে যায়। তবে, পাকাপোক্ত হয় মায়ামি হেরাল্ড ২০১৮ সালে বিস্ফোরণমূলক ইপস্টেইনের যৌন কেলেঙ্কারি প্রকাশ করার পরম্পরায়। সুচতুর ইপস্টেইন চমস্কির মতো বিখ্যাত ব্যক্তিত্বকে সুকৌশলে কব্জা করে ফায়দা নিতে তৎপর হন। চমস্কির স্ত্রী ভ্যালেরিয়া চমস্কি স্বীকার করেন যে তাঁরা মায়ামি রিপোর্ট সম্পর্কে পরিজ্ঞাত ছিলেন কিন্তু ইপস্টেইনের পাপাচারের কুৎসিত দিকগুলো সম্পর্কে থোড়াই জানতেন। যৌন ব্যবসা নিয়ে তাঁর যে অতি নিম্নমানের কাজকারবার এবং এতে উঁচু মহলের সম্পৃক্ততা যে কত ব্যাপক ছিল সে সম্পর্কে তাঁরা ওয়াকিবহাল ছিলেন না। চমস্কি পত্নী অকপটে স্বীকার করেছেন, We were careless in not thoroughly researching his background. This was a grave mistake. It was deeply disturbing for both of us to realize we have engaged with someone who presented as a helpful friend but led a hidden life of criminal, inhumane and perverted life।’
চমস্কি দম্পতি এবং ইপস্টেইনের মধ্যকার সম্পর্ক বেশ অন্তরঙ্গ এবং গভীর ছিল। তাঁরা একসাথে নৈশভোজ ছাড়াও পরিভ্রমণ করেছেন। যদিও আইল্যান্ডে যাননি, ইপস্টেইনের নিউইয়র্ক শহরের টাউন হাউস, প্যারিস অ্যাপার্টমেন্ট, নিউ মেক্সিকোর র্যাঞ্চ হাউসে তাঁদের যাতায়াত ছিল। অতিবাহিত সময়ে একাডেমিক আলাপ-আলোচনা হতো তাঁদের মধ্যে বলে জানা যায়।
নিজেকে একজন বিদ্বজ্জন, জ্ঞান-বিজ্ঞান ক্ষেত্রে সদা প্রস্তুত দাতা হিসেবে প্রতিপন্ন করতে সদা সচেষ্ট থাকতেন। চমস্কি ইপস্টেইনকে এতটাই বিশ্বাস করতেন যে নিজের আর্থিক সমস্যা নিয়ে প্রয়োজনে শলা-পরামর্শ নিতেন। আর্থিক সংকট কয়েকবারই তাঁর সাহায্য নিয়ে কাটিয়ে উঠতে সমর্থ হয়েছেন। তবে, তাঁদের কোনো যৌথ বিনিয়োগ বা ব্যবসা ছিল বলে জানা যায়নি। আসলে, সুচতুর দুষ্ট চরিত্রের ইপস্টেইন ভালো মানুষ চমস্কির সুনাম কাজে লাগানোর ধান্ধায় থাকতেন। মানুষ চেনায় নিতান্তই সহজ-সরল এবং বোকা চমস্কি ইপস্টেইন সম্পর্কে খোঁজখবর তেমন সতর্কতার সাথে না নিয়ে তাঁর চাতুরির ফাঁদে পা দিয়েছেন। এ বিপদ থেকে পরিত্রাণ পান—এ কামনা রইল।
Posted ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh